বাস যখন পঞ্চগর বাসস্ট্যান্ড পৌছাল
ততক্ষনে ঘড়ির কাটা রাত 9 টা অতিক্রম করেছে
বাসস্ট্যান্ড থেকে পঞ্চগর সদর চলে গেলাম
সেখানে গিয়ে হোটেল ভাড়া করলাম রাতের খাবার খেয়ে দিলাম ঘুম 😴
একঘুমে ভোর ৫.৩০ টা .
ফ্রেশ হয়ে হোটেল থেকে চেক আউট করে ৬ টা বেজে গেছে.
সারাদিন অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হবে তাই সময় নষ্ট না করে চলে গেলাম পঞ্চগর বাসস্ট্যান্ড .
সেখান থেকে তেতুলিয়ার বাসের টিকিট করলাম .কিছুক্ষন পর বাস ছাড়লো ৭.৩০ এর দিকে তেতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এ নামি.
বাসস্ট্যান্ড এ সকালের নাস্তা সেরে নিই.
নাস্তার পর বাংলাবান্ধা যাবার বাসের টিকিট করলাম .
যতক্ষনে বাংলাবান্ধা পৌছালাম সকাল ৮.৩০ বাজে.
সময় নষ্ট না করে দৌড় দিলাম বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে .
বি এস এফ ইন্ডিয়ার পতাকা 🇮🇳 টানিয়ে চলে গেল বিজিবি এর দুইজন কর্মকর্তা আসলেন তারাও বাংলাদেশের পতাকা 🇧🇩 টানালেন.
সময় বাড়ছে ,বাড়ছে লোকজনও.
ভারত থেকে পন্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য দারিয়ে আছে .
9 টা বাজার সাথে সাথে একে একে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করলো .
কিছুক্ষনের মধ্যে পুরো রাস্তা জ্যাম হয়ে গেলো! 😩
জিরো পয়েন্ট থেকে অটো রিজার্ভ করলাম আমাদেরকে কাজী & কাজী টি স্টেট আনন্দধারা রিসোর্ট ঘুরিয়ে তেতুলিয়া ডাকবাংলো পৌছে দেবে |
জিরো পয়েন্ট এর পাশদিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর তীরে গেলাম
নদীটি ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে 🙂
অসম্ভব ঠান্ডা নদীর পানি .
নদীর পারে দাড়িয়ে আছি হঠাৎ দূর থেকে সাইরেন বেজে উঠল😮
অটোচালক রহমত ভাই জানালেন ভারতীয় সুইচগেট থেকে পানি ছাড়বে .
সত্যিই একটুসময় পর নদীর পানি আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করলো.

অনেকটা পথ যেতে হবে তাই আর সময় নষ্ট না করে রওনা দিলাম কাজী & কাজী টি স্টেটের আনন্দধারা রিসোর্ট এর উদ্দ্যেশে |
অটো চলছে তো চলছেই ‌.
কিছু সময় পর মেইন রোড থেকে ঢুকে পরলাম গ্রামের রাস্তায় |
একটা অটোতে মাত্র ৩ জন
অটোচালক আর আমরা দুইজন ,
সময়কাটানোর জন্য কথা বলতে থাকলাম রহমত ভাই এর সাথে
কথা বলতে বলতে অনেক তথ্য জানতে পারলাম ..
উনি জানালেন উনি নিজেও কাজী & কাজী টি স্টেট এ কাজ করেছেন |
তবে পারিশ্রমিক শুনে মনে হলো আকাশ থেকে পড়লাম
সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত
মাত্র ১৫ টাকা প্রতিদিন 🙁 |
আরো অনেক তথ্য জানালেন তিনি |
ধানক্ষেত, ভুট্টার ক্ষেত, মরিচের ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে মাটির রাস্তা |
হেলেদুলে চলছে আমাদের গাড়ি |
রাস্তা ও ভারতীয় তারকাটার মধ্যবর্তী দূরত্ব একেবারেই অল্প 🙂
বাংলাদেশ ও ভারতকে আলাদা করেছে সল্পপ্রসস্থ বিশিষ্ট চা বাগান!!
একটি চাবাগানের সামনে নামলাম, দেখলাম অবাক হলাম!! 😮
সামনে তাকালে চোখের শেষ সীমানায় ও চা বাগান …

চলতে চলতে একসময় একসময় একটা গেটের সামনে গাড়ি থামালেন বললেন এটাই আনন্দধারা রিসোর্ট ||
রহমত ভাই বললেন ভেতরে তার পরিচিত লোক আছে উনি কথা বলতে গেলেন .
আমরা গেটের বাইরে দাড়িয়ে আছি , একজন ভদ্রলোক বললো আসো ভিতরে আসো 😍
আমি আর তারেক অবাক 😮😮
অটোচালক রহমত ভাই বললেন ,
যিনি আমাদের ভেতরে যেতে বললেন উনিই জি এম ..
ভেতরে ঢুকলাম ,
সৌন্দর্যের বর্ননা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয় ..
রিসোর্টের মধ্যে দিয়ে ছোট ডাহুক নদী বয়ে চলে গেছে…
ঘুরলাম ,ছবি তুললাম .
সময় হয়েছে বের হবার 🙁
পুনরায় অটো চলতে শুরু করলো
গন্তব্য তেতুলিয়া ডাকবাংলো ..
রাস্তার দুইধারে বৃহৎ চা বাগান.

কিছু পথ যাবার পর সাইনবোর্ড এ লেখা দেখলাম মিনি মিনাবাজার ও শিশুপার্ক ..
ToB😍 তে পোস্ট দেখেছিলাম
তাই অটো থেকে নেমে ভেতরে ঢুকলাম .
মাঝারি সাইজের একটা দোকান .
স্পন্জ মিষ্টি খেলাম ,
অসাধারন স্বাদ😍😍
খাটি দুধের ছানা দিয়ে তৈরি..
মিনাবাজার থেকে সরাসরি তেতুলিয়া ডাকবাংলো ||
রহমত ভাইকে বিদায় জানিয়ে ডাকবাংলোর একটিগাছের ছায়ায় বসলাম .‌‌..
মহানন্দা নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে এই ডাকবাংলো .
নদীর এপাশে বাংলাদেশ
অপর পাশে ভারত .
নদীর পারে ব্যাগ রেখে সরাসরি নেমে পরলাম নদীতে 😊
ঠান্ডা শীতল নদীর পানি 
স্থানীয় বাচ্চাদের সাথে নদীর পানিতে দাপাদাপি করলাম 😍😍
মাঝনদীতে রাবার ড্রামে পাথর তুলে ভরছে অসংখ্য বাঙালি …
একজন পাথর সংগ্রাহকের সাথে কথা বললাম .
তিনি জানালেন পুর্নএক রাবার ড্রাম পাথরের দাম ৮০০ টাকা..
সময়ের অভাবে কমলা বাগান , হলুদ বাশবাগান দেখতে যাওয়া হয় নি😭😭
সময় হয়েছে তেতুলিয়া কে বিদায় জানানোর .‌
তেতুলিয়া থেকে মহারাজারদিঘী চলে আসলাম .
পরেরদিন পহেলা বৈশাখ,
দীঘির পাড়ে পুরোদমে চলছে মেলার প্রস্তুতি ||
দীঘিতে স্পিডবোট নামিয়েছে .
যদিও তা দেখে মনে হলো
১৫ – ২০ বছরের পুরানো.‌‌
দীঘির পাশে বসে মেলার প্রস্তুতি দেখতে দেখতে বিকাল কাটিয়ে দিলাম 😍
ফিরতে হবে পঞ্চগর .
অটোঠিক করলাম বোর্ডঅফিস নামিয়ে দিয়ে যাবে.‌
দীঘি থেকে ফেরার পথে দেখলাম দূরে ভারতীয় বর্ডারে হলুদবাতি জ্বলছে 🙄
বাংলাদেশের পাশে অন্ধকার 😑
বোর্ডঅফিস থেকে বাসে উঠলাম পঞ্চগরের উদ্দ্যেশে…

ভাড়া ও ব্যাবহৃত যানবাহন
পঞ্চগর থেকে তেতুলিয়া 40/- বাস
তেতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা 30/-
(পঞ্চগর থেকে ডিরেক্ট বাংলাবান্ধা 70/-)
বাংলাবান্ধা থেকে কাজী & কাজী টি স্টেট হয়ে তেতুলিয়া ডাকবাংলো 450/- রিজার্ভ অটো
ডাকবাংলো থেকে তেতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড 10/- ভ্যান
বাসস্ট্যান্ড থেকে বোর্ডঅফিস 35/- বাস
বোর্ডঅফিস থেকে মহারাজারদিঘী 15/- অটো
মহারাজারদিঘী থেকে বোর্ডঅফিস 15/-
বোর্ডঅফিস থেকে পঞ্চগর 20/- বাস

গুছিয়ে লিখতে না পারার জন্য দুঃখিত😔

যেখানেই ঘুরতে যান না কেন আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখুন
এবং মানুষের সাথে ভালো ব্যাবহার করুন.