সেমিস্টার ফাইনাল শেষ
কোথাও একটা তো ঘুরতে যেতে হবে 😊
প্রচন্ড গরম বলে বন্ধুদের মধ্যে থেকে তেমন কোন সাড়া পাইনি😔
অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম দুইজন হলে দুইজনই যাবো 🙃🙃
বন্ধু তারেকের সাথে কথা বললাম
বললো চল উত্তরবঙ্গ যাই. এককথায় রাজি আমি!!
যে কথা সেই কাজ 🙂
এপ্রিলের ১১ তারিখ রাতে ট্রেনের টিকিট কেটে দ্রুতজান এক্সপ্রেসে চড়ে বসলাম
সময়মতো ট্রেন ছাড়লো
টানা ৩ দিন বন্ধ থাকার কারনে ট্রেনে মানুষের উপচে পড়া ভিড়
ট্রেনে অবর্ননীয় এক বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই! 😩
সকাল 7.30 এ পৌছাই পীরগঞ্জ

প্রথম দিন : ঠাকুরগাঁও

সর্বপ্রথম আমাদের গন্তব্য ছিলো
রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়ি
ট্রেন থেকে নেমে মাহেন্দ্রা করে রাণীসংকৈল (মাদ্রসা মোড়).
মাদ্রসা মোড় থেকে হেটে ৫ মিনিটের মধ্যে চলে যাই রাজা টংকনাথের জমিদার বাড়ি .
পুরাতন সুনিপুন কারুকার্জ খচিত জমিদার বাড়ি.
এককথায় অসম্ভব সুন্দর জমিদার বাড়ি
কিন্তু এর আশেপাশের লোকজন একে গোয়ালঘর,কেওবা বাথরুম হিসেবেও ব্যাবহার করছে.
নেই কোন পরিচর্জা দিনে দিনে এক হানা বাড়িতে পরিণত হচ্ছে.

সেখান থেকে পরবর্তি গন্তব্য “রাণীসংকৈল শালবাগান”

মাদ্রসা মোড় থেকে ভ্যান ঠিক করি
গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে 20 মিনিটের মধ্যে পৌছে যাই শালবাগান
অনেক বড় এরিয়া নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বাগানটি
বড়বড় শালগাছ নিচে কার্পেটের চেয়েও সুন্দর ঘাস|
ঘাসের উপর শালগাছের ফুল চারপাশকে করে তুলেছে এক সৌন্দর্যের লীলাভুমি😍

ট্যুর এ গিয়ে রিল্যাক্স এবং বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা দেয়ার জন্য পারফেক্ট একটা জায়গা 🙂
আমরা দুইজন থাকায় আড্ডা দেয়ার ফিলিংসটি নিতে পারিনি😭
তবে স্থানীয় ছোট ছেলেদের সাথে খানিকটা সময় কাটিয়ে বাজারে চলে আসলাম |
সেখান থেকে ভ্যান নিয়ে ছুটলাম
“রাণীসংকৈল দীঘি” স্থানীয়দের ভাষ্যমতে “রামরাই”
ভ্যান চলছে তো চলছেই
দুইপাশে ভুট্টার ক্ষেত মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা
চৈত্র মাসের রোদ 😞
রোদকে সাথে করেই ভুট্টার ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে আমাদের ভ্যান |
ভ্যানচালক একজন মুরুব্বী
সময়কাটানোর জন্য মুরুব্বীর সাথে কথা বলতে শুরু করলো বন্ধু তারেক |
মানুষ কতটা সহজ সরল হতে পারে
তার একবাস্তব উদাহরন ছিলেন ভ্যানচালক ওই চাচা
গল্প করতে করতে চলে আসলাম রামরাই | সুবিশাল এক দীঘি, দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় |
দীঘির চারপাশে মাটি দিয়ে উচু করে লাগানো হয়েছে লিচুগাছ যা এইদীঘিকে আরো সুন্দর করে তুলেছে |
দীঘির পানিতে সাঁতার কাটছে অসংখ্য বেলে হাস |
দীঘির পানিতে আমরাও অনেক্ষন সাঁতার কাটলাম 🙂
রামরাই থেকে পরবর্তি গন্তব্য হরিনমারী “আমগাছ ও সমতল ভুমির চা বাগান”.
একটা কথা বলে রাখা ভালো রামরাই বাজার থেকে বেশ দূরে
সাধারনত ভ্যান অটো কিছু পাওয়া যায় না খুব একটা
তাই বাজার থেকে ভ্যান রিজার্ভ নিয়ে যাওয়াটাই ভালো
যদিও আমরা রিজার্ভ করি নি
আল্লাহ র কাছে সুকরিয়া আমরা একটা ভ্যান পেয়েছিলাম
নাহলে চৈত্র মাসের কাঠফাটা দুপুরের রোদে ৫/৬ কিলোমিটার পথ হেটে আসতে হতো😞
রামরাই থেকে ভ্যান নিয়ে চলে এলাম থানাবাজার |
থানাবাজার থেকে যতক্ষনে হরিনমারী পৌছাই ততক্ষনে জুম্মার নামাজের সময় হয়ে গেছে নামাজের পরে দুপুরের খাবার খেয়ে ঢুকলাম আমগাছ দেখতে 30 টাকা দিয়ে টিকিট কেটে.
মোটামোটি বড় এরিয়া নিয়ে আমগাছ টা দাড়িয়ে আছে.
মানুষ তাদের বংশপরিচয় আমগাছে একে দিয়ে এসেছে 😡
দুপুর ৩ টা বেজে গেছে এখনো অনেক ঘুরতে হবে সেজন্য সেখানে সময় নষ্ট না করে ভ্যান নিয়ে দৌড় দিলাম সমতল ভুমির চা বাগান(ইসলাম টি স্টেট) দেখতে
সুবিশাল এরিয়া নিয়ে বর্ডার অঞ্চলে গড়ে উঠেছে এই চা বাগান এপারে বাংলাদেশের চা বাগান তারকাটার ওপাশে ভারতের চা বাগান .
চা বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট নাগ্রী নদী ভারত থেকে এসে বাংলাদেশ হয়ে আবার ভারতে ঢুকে গেছে 🙂
পানি কম থাকায় হেটে হেটে নদী পার হয়ে ওইপাশে চলে গেলাম কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে ফিরে চলে আসলাম বালিয়াডাঙ্গী .
বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হতে চললো এখনো জামালপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ দেখা বাকি
বালিয়াডাঙ্গী থেকে বাসে করে রোড .
রোড থেকে অটো নিয়ে মসজিদের উদ্দ্যেশে রওনা হলাম .
শিবগঞ্জ পার হবার পার দুইধারে সবুজ ধানক্ষেত মাঝখান দিয়ে সাপের মতো চলে গেছে রাস্তা
যেদিকে তাকাই শুধু সবুজ আর সবুজ 😍
যা দেখে নিমিষেই সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে 😊
যতক্ষনে জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ পৌছালাম মসজিদের মিনারা থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসছে .
মানুষের তৈরিকৃত স্থাপনা এত সুন্দর হতে পারে তা মসজিদ দেখলেই বুঝতে পারবেন
আশ্চর্য হলেও সত্য মসজিদের ভেতরে মাত্র দুইকাতার লোক দাড়াতে পারে 😮
মসজিদের সামনে জমিদারের কাচারি ঘর এখনো বিদ্যমান
পাশেই জমিদার বাড়ি .
কথা হলো জমিদারের নবম বংশধরের সাথে 
তিনি বললেন মসজিদ টি ১৭৮০ সালে তৈরি 😍
শেষ হতে বসেছে তাদের জমিদারিও 😓
তাকে বিদায় জানিয়ে চলে আসলাম ঠাকুরগাঁও বাসস্টান্ড .

পুরাটা দিনে কথা হয়েছে অনেক স্থানীয় লোকের সাথে .সকলে অনেক হেল্পফুল এবং অতিথিপরায়ন 😍😍
প্লেসগুলা ঘুরে যতটা ভালো লেগেছে তার চেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছি মানুষ গুলোর ব্যাবহারে.
একেবারে সহজ সরল , কুবুদ্ধি হয়তো তারা জানেও না ||

দেখেছি স্থানীয় অনেক কিছু যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাইকেল.
পুরুষ মহিলা সমহারে সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন ,
যা বহিরাগত যেকাউকে অবাক করবেই ..
এবিষয় নিয়ে কথা বললাম স্থানীয় একজনের সাথে তিনি বললেন ঠাকুরগাঁও এর প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই নাকি ১/২ টা সাইকেল আছে!
সময় হয়েছে ঠাকুরগাঁও কে বিদায় জানানোর 🙂
বি আর টিসি বাসের টিকিট কেটে বাসে উঠে বসলাম
বাস ছুটে চললো পঞ্চগরের দিকে ….

ভাড়া (১জন) ও ব্যাবহৃত যানবাহন :

পীরগঞ্জ থেকে মাদ্রসা মোড় 20/- (অটো/বাস)
মাদ্রসা মোড় থেকে শালবাগান ১0/- (ভ্যান)
শালবাগান থেকে রামরাই ২৫/- (ভ্যান )
রামরাই থেকে থানা ১৫/- (ভ্যান)
থানাবাজার থেকে বালিয়াডাঙ্গী ২০/-
(বাস)
বালিয়াডাঙ্গী থেকে হরিনমারী বাজার ২৫/- (অটো)
হরিনমারী বাজার থেকে আমগাছ + চা বাগান 60 /- (ভ্যান) যাওয়া আসা
হরিনমারী থেকে বালিয়াডাঙ্গী ২৫/-
বালিয়াডাঙ্গী থেকে রোড ২০/- বাস
রোড থেকে শিবগঞ্জ 10/- অটো
শিবগঞ্জ থেকে মসজিদ 10/- অটো
মসজিদ থেকে ঠাকুরগাঁও বি আর টিসি বাসস্টান্ড 25/- (অটো)
ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগর 50/- (বাস)

যেখানেই যান আপনার চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন
পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ