বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। এই বনকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

চিরসবুজ এই বন গুয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। এখানে সবচেয়ে বেশি জন্মায় করচ গাছ । বর্ষাকালে এই বন ২০–৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে। বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। তারপর ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়ে-চলা পথ। আর তখন পানির আশ্রয় হয় বন বিভাগের খোঁড়া বিলগুলোতে। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীকুল।(তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া)

ভ্রমণ বৃত্তান্ত:–
সেপ্টেম্বর ১৪,২০১৮
অামারা ছিলাম ৪ জন। সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে রাত ১১:৩০ টার বাসে টিকিট কেটে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।
ভোর ৫:৩০ টার মধ্যে গাড়ি সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে পৌছে যায়( কদমতলী হলো সিলেটের লাস্ট বাস স্টোপেজ)। তারপর আমরা কিছুক্ষণ কাউন্টারে বসে থাকি আর ওয়াশরুমের কাজগুলো সেরে ফেলি।
★ বাস ভাড়া (ঢাকা>সিলেট /সিলেট> ঢাকা) যাওয়া আসা ৪৫০×২=৯০০ টাকা (জন প্রতি)

কাউন্টার থেকে ৬:৩০ টার দিকে একটা সিএনজি নিয়ে অাম্বরখানা চলে যায়।
★ জন প্রতি ভাড়া ২০ টাকা।
অাম্বরখানা যাওয়ার পর দেখি সিএনজি সব লাইন দিয়া দাড়াইয়া আছে। আমরা ওখান থেকে একটা সিএনজি ভাড়া করলাম ১২০০ টাকা (৪ জন)। ওরা কিন্তু আমাদের কাছে ১৬০০ টাকা চাইছিলো।
সিএনজি নিয়ে রাতারগুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম সকাল ৮:৩০ টার মধ্যে আমরা রাতারগুলে পৌছে গেলাম। তখন টিপটপ বৃষ্টি হচ্ছিলো।ওখানে আমরা সকালের নাস্তা করলাম।
★সকালের নাস্তা ৫০ টাকা (জন প্রতি)।
এবার নৌকা ভাড়া করার পালা। সিএনজি ড্রাইভারকে বললাম একজনকে ডাকতে তারপর এক মাঝি আসলো। আমরা দরকষাকষি করে সর্বশেষ ১৫০০ টাকায় রাজি করালাম। এখানে আমরা আর ও ২ জনের একটা গ্রুপ ছিলো ওদেরকে সাথে নিয়েছিলাম।
★নৌকা ভাড়া ১৫০০ টাকা ৬ জন।
তারপর নৌকা নিয়া রাতারগুলে বনের ভিতরে ঢুকলাম। গাছের ডাল পালার ভিতর দিয়ে নৌকা চলতে থাকলো আর টিপটপ বৃষ্টি পড়তে লাগলো। চারিদিকে সবুজ গাছ আর বৃষ্টির পানিতে গাছগুলো আরও সবুজ হয়ে উঠলো বেশ ভালোই লাগছিলো।
অাস্তে অাস্তে গাছের ভিতোর দিয়ে ওয়াচ টাওয়ারের কাছে নিয়ে গেলো।আমরা নৌকা থেকে নেমে ওয়াচ টাওয়ারে উঠলাম। ওয়াচ টাওয়ারে উঠার পর রাতাগুলের আসল সৌন্দর্য চোখে পড়ল। অনেক সুন্দর লাগছিলো একদম মনোমুগ্ধকর।
আমি ওয়াচ টাওয়ার থেকে নেমে নৌকায় চলে গেলাম। মাঝিকে বললাম আমি পানিতে নামবো কোনো সমস্যা?
বললো না, জোক লাগতে পারে। যাই হোক আমি পানিতে লাফ দিয়ে সাঁতার কাটতে লাগলাম। কিছুক্ষণ সাঁতার কেটে ওয়াচ টাওয়ারে চলে অাসলাম। অাল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হয়নি।তবে সাঁতার কাটতে ভালোই কষ্ট হয়েছিলো কারণ মিষ্টি পানিতে সাঁতার কাটা একটু কষ্টকর।
এরপর ওখান থেকে আমরা ঘাটে চলে আসলাম। ড্রেস চেন্জ করে বিছানাকান্দি উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।

দুপুর ১২ থেকে ১২:৩০ টার মধ্যে হাদারপাড় লঞ্চ ঘাটে চলে এলাম। এখানে আমরা একটা হোটেল থেকে হাঁসের মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম।
★ দুপুরের খাবার ৬০০ টাকা ৪ জন। টেস্ট ৫/১০।

এবার আমরা এখান থেকে বিছানাকান্দি যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করলাম।
★ ভাড়া ২২০০ টাকা ৬ জন।
৩০ -৪০ মিনিটের মধ্যে পৌছে গেলাম বিছানাকান্দি। অতুলনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর বিছানাকান্দি। মেঘ,পাহাড় পাথর আর ঝরণার পানি মিশে একাকার। কাচের মতো সচ্ছ পানি। পানির উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবই দেখা যায়। আর পানিতে গোসল না করলে হয়ত অনুভব করতে পারতাম বিছানাকান্দি কতটা শান্তিময় সচ্ছ,সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর।

বিছানাকান্দিতে দেড় ঘন্টার মতো থাকার পর আমরা চলে এলাম হাদারপাড় লঞ্চ ঘাটে। ওখানে আমাদের সিএনজি অপেক্ষা করতেছিলো।তারপর আমরা ৫ টার মধ্যে অাম্বরখানা চলে অাসলাম। কাছেই হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার ,চিত্র নায়ক সালমান শাহ এর মাজার।আমরা মাজার এর আশে পাশে ঘুরে দেখলাম। তারপর ওখান থেকে রিটার্ন টিকিট কাটলাম ১২ টার গাড়িতে। আমাদের হাতে এখনো প্রায় ৫ ঘন্টার মতো সময়। এই সময়ে আমরা রিকসা নিয়ে সুরমা নদীর পাশে ঘুরে বেড়ালাম, কাছাকাছি ২ টা ব্রীজ আছে,ব্রীজ ২ টা ও ঘুরে ঘুরে দেখলাম। তারপর রাতে সিলেটের বিখ্যাত পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে আম্বরখানা বাস কাউন্টারে যেয়ে বসে থাকলাম। রাত ১২ টা বাজে গাড়ি ছাড়লো সকালে ঢাকা পৌঁছে গেলাম।

বি:দ্র: রাতারগুল ও বিছানাকান্দি খুবই পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন জায়গা ওখানে যেয়ে কেউ কিছু ফেলবেন না।
নিজে পরিস্কার রাখবেন ও অন্যদের পরিস্কার রাখার ব্যাপারে সচেতন করবেন।