সকালে উঠে জয়সালমির শহরে ফিরে এলাম। পথে ঢুঁ দিয়ে এলাম নরেন্দ্র জী-র বাসায়। তাঁর সুন্দর চোখের মিষ্টি কন্যাশিশুকে স্মৃতিতে খোদাই করে নিয়ে এলাম। স্থানীয় যারা গত রাতে আমাদের সাথে ছিলেন, সবাই হ্যান্ডশেক করে বিদায় নিলেন। জিপে করে ফিরে এলাম সোজা হোস্টেলে। পথে মনোযোগ দিয়ে দেখলাম তাদের ঘরবাড়িগুলো একটা বিশেষ ধরণে নির্মিত। একেকটা ঘর থেকে আরেকটা ঘরের দূরত্ব বেশ অনেক, আর স্বাভাবিকভাবেই লোকবসতি কম।

রাতের ট্রেনের টিকেট কাটা হয়ে ছিলো দিল্লীর জন্য (রানীক্ষেত এক্সপ্রেস, স্লিপার ক্লাস, ৫০০ রুপি)। হোস্টেলে তাই আমাদের কোন নাইট স্টে হলো না। সকাল ১১- টা থেকে রাত ১১-টা পর্যন্ত থাকার জন্য ৮০০ রুপি দিতে হলো। রুমে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বিকালে আমরা ফোর্টের ভেতর গেলাম। “Free Tibet” নামে একটা রুফটপ রেস্টুরেন্ট থেকে মম আর কফি খেলাম। ছাদ থেকে শহরের চমৎকার প্যানারমিক ভিউ পাওয়া যায়।

এরপর ঘুরে ঘুরে দেখলাম ফোর্টের ভেতরটা। ট্যুরিস্টস হেভেন ফর শপিং। গল্প করলাম কাশ্মিরি শাল বিক্রেতা রহিম খানের সাথে। হাঁটতে হাঁটতে আমাদের বাংলা শুনে হুট করে পাশের দোকানের একজন দোকানদার পরিচয় দিয়ে বললেন তিনিও বাঙালি। আশপাশের লোকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেটা এক আন্তরিক, উষ্ণ অভিজ্ঞতা। সেখানে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এদিকে নন ভেজ রেস্টুরেন্ট কোথায় হবে?” তিনি মজা করে বললেন, “এই রে, আজকে তো আমাদের রাতের খাবারই হবে না। আপনারা নন ভেজের নাম নিয়ে নিয়েছেন! আমরা আবার ব্রাহ্মণ কিনা!” হেসে ফেললাম। এরপর কিছু কেনাকাটা শেষে আমরা বেরিয়ে এলাম।

ফোর্টের বাইরে বাংলা ভাষায় লেখা এক বাঙালি হোটেলের বিজ্ঞাপন দেখে মন লাফিয়ে উঠলো। মনে হল কতদিন পর আশেপাশে বাংলা লেখা দেখতে পাচ্ছি। সেখানেই ফোন দিয়ে ঠিকানা জেনে রাতের খাবার খেতে চলে গেলাম। জায়গাটার নাম হনুমান সার্কেল, ফোর্ট থেকে ৫০ রুপি অটো ভাড়া। হোটেলের নাম “হোটেল প্রিন্স”। পেট পুরে ভাত, মাটন কারি, আলু-পনিরের সবজি আর ডাল খেয়ে মনটাই ভালো হয়ে গেলো।

এরপর ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে রওনা হয়ে গেলাম রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে। সাধারণত অত রাতে অটো বা ট্যাক্সি পাওয়া যায় না, হোস্টেল মালিকের মাধ্যমে সেটা ম্যানেজ করা গেলো। রাত ১ঃ২০-এর ট্রেন ধরে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিলাম। বিদায় জানালাম ছোট্ট স্টেশন, রূপকথার শহর আর সোনার কেল্লার হাতছানিকে।

[খরচের হিসাব ঢাকা থেকে পুরোপুরি ধরলে আলাদা হবে, কারণ এর আগে আমরা ১০ দিন থেকেছি। শুধু উদয়পুর থেকে শুরু করে, জয়সালমিরে দুই দিন এক রাত থেকে, দিল্লি পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের খরচ হয়েছে –
প্রথম দিনঃ

উদয়পুর টু জয়সালমির (এসি বাস – স্লিপার কোচ) – ১৫০০ রুপি
ট্যাক্সি ভাড়া – ২০ রুপি
নাস্তা – ১৫০ রুপি
স্ন্যাকস – ২০ রুপি
ডেজার্ট প্যাকেজ – ১৫০০ রুপি (বিকালের নাস্তা+ ডিনার + পরের দিন সকালের নাস্তাসহ)

দ্বিতীয় দিনঃ
লাঞ্চ – ১৭০ রুপি
ফোর্ট থেকে হনুমান সার্কেল পর্যন্ত অটো ভাড়া – ৫০ রুপি
ডিনার – ২২০ রুপি
হোস্টেল – পার পার্সন ২৭০ রুপি
স্টেশন পর্যন্ত অটো ভাড়া – ১০০ রুপি
জয়সালমির টু দিল্লি (ট্রেন – স্লিপার ক্লাস) – ৫০০ রুপি

মোটঃ ৪৫০০ রুপি ~ ৫৬০০ টাকা প্রায়] [ভ্রমণ আমাদের মানুষ হিসাবে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করার কথা, আর যেখানে যেখানে বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি ফেলে আসা কোন সচেতন মানুষের কাজ হতে পারে না। যেখানেই যাবেন, পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। আপনিসহ ভালো থাকবে আনুষঙ্গিক সকলে। ধন্যবাদ।]