প্রতি পর্বের প্রধান ব্যাপার ছিল কিভাবে আপনি বালিতে যাওয়ার প্লান করবেন থেকে শুরু করে আনুসাংিক খরচ, কিভাবে খরচ কমানো যায় এবং অন্যান্য। আজকে শেষ পোস্ট আমার বালি নিয়ে, শুধুমাত্র আমরা কি করেছি কিভাবে করেছি এই সাধারন ব্যাপারগুলো।

নতুন পাসপোর্ট হাতে পাই এপ্রিলের ৮ তারিখে,টিকেট কাটতে যাই ১৫ তারিখ,টিকেট কাটি ২২ তারিখের মালিন্দো এয়ারলাইনস এর। ৭ দিন আগে টিকেট কাটায় খরচ পরে ৭৪ হাজার টাকা ২ জনের আপ-ডাউন ১০ ঘন্টার ট্রানজিট , আগে কাটলে শর্ট ট্রানজিট ই পাওয়া যেতো ৫৪ হাজারের আশেপাশে, রোজার আগে ট্রিপ শেষ করবো বিধায় টিকেট নিয়ে নেই। এয়ারলাইনসের অফিস থেকে না নিয়ে এক পরিচিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকেট কাটি,কিছুটা কম পরে খরচ।

দিন ১ঃ ট্রিপ টু বালি

মোক্ষম দিনে সব কিছু গুছিয়ে এপ্রিলের ২১ তারিখ রাত ১০ টায় রিপোর্টিং করি এয়ারপোর্টে, ফ্লাইট ২২ তারিখ ভোর রাত ১ টায়। বোর্ডিং পাস কালেক্ট করে, ইমিগ্রেশনের ১-২ টা প্রশ্ন পার হয়ে ওয়েটিং রুমে বসে ঠিক ১ টায় আমাদের ফ্লাইট ছাড়ল। আমার একটু কষ্ট হচ্ছিল, প্লেন উপরে উঠার সময় এয়ার প্রেসারে কানে অনেক বেশি ব্যথা হচ্ছিল,৩১০০০ ফুটের উপর উঠার পর আবার ঠিক হয়ে গিয়েছিল,আর ঘুমাতে পারিনি মোটেও। মাঝারি ভারি একটা ডিনার দিল মালয়েশিয়ান ফ্লেভার এর। কুয়ালালামপুরে নেমে ঢুকলাম স্টার বাকস এ, পরে রিংিট না থাকায় ডলার ভাংিয়ে ঘুরে স্টার বাকসের কফি খেয়ে,ওখানেও নাস্তা করে ৩ ঘন্টা পর বের হলাম। চেক ইন করার আগেই এয়ারপোর্টের মধ্যে ২ পাশে অনেকগুলো বেঞ্চ টাইপের সিট থাকে সেখানে নিচে নিজেদের হ্যান্ড ব্যাগ দিয়ে দিলাম এক ঘুম, এক ঘুমে ২-৩ ঘন্টা পার,উঠে লাঞ্চ করে বালির প্লেনের জন্য ওয়েট করলাম। দূর্ভাগ্য বশত আমার ওয়াইফের ফোন পরে পাচ্ছিলাম না,এখন ভুলে যেখানে ঘুমানো হইসে সেখানে ফেলে আসলাম কিনা নাকি কেউ নিয়ে গেল কি না সেটা বুঝলাম না,ফেরত গিয়েও খুজে পেলাম না। মালয়েশিয়ার মানুষজন ও খুব একটা ভালো ইংলিশ বুঝে না, পুলিশ স্টেশন এয়ারপোর্টের বাইরে,শুধু মাত্র ওদের হেল্পিং ডেস্ক এ কম্পলেন করেই খুশি থাকতে হল। মন খারাপ করেই বালির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হল।

বালিতে এয়ারপোর্টে নামলাম রাত ৯ টায়।নামার পর ইমিগ্রেশন পার হতে বেশি সময় লাগল না, তেমন কোন প্রশ্নের ই সম্মুখীন হতে হল না।১০০ ডলারের মত ভাংিয়ে নিলাম। ট্যাক্সি ভাড়া করে সোজা চলে গেলাম আমাদের বুক করা “হোটেল প্লাস গ্রান্ড মাস এয়ারপোর্ট” নামের হোটেলে। ১৮০০ টাকা করে ভাড়া পার ডে, বাট যথেষ্ট ভাল হোটেল, এয়ারপোর্ট থেকে ১০ মিনিটের ডিস্টেন্স। বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় কোথাও যাওয়া হল না, রাতে বের হয়ে কুতা বিচ এর পাশে ম্যাকডোনাল্ডে বার্গার খেয়েই ডিনার কম্পলিট করি এবং পাশেই অন্ধকারাচ্ছন্ন কুটা বিচ এ একটু পা ভিজিয়ে হোটেলে ফেরত আসি।

দিন ২ঃ বালির বিভিন্ন বীচ ভ্রমন

সকালে ঘুম থেকে উঠে হোটেলের কম্পলিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট খেয়ে নেই, সকালেই হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে একটা ট্যাক্সি বুক করে নেই, সারা দিনের জন্য ৫৪০০০০ রুপাইয়া, ঘুরিয়ে আনবে এক সাথে গুনুং পায়ুং-ড্রিমল্যান্ড বীচ-বিংগিং বীচ- সুলুবান বীচ- প্যাডাং প্যাডাং বীচ- উলুওয়াটু টেম্পল – জিম্বারান বীচ। সকাল ১১.৩০ টায় ট্যাক্সি তে উঠি, আগে উঠতে পারলে ভাল হত, কারন দেরিতে উঠার কারনে সব গুলো যায়গা সময় নিয়ে দেখা যায় নাই,আর সুলুবান বীচ এক্সক্লুড করতে হয় পরে। বালির একেকটা বীচ একেক রকম সুন্দর, কোনটা একদম না হেটেই গিয়ে এঞ্জয় করতে পারবেন। কোন বীচ পাহাড়ের উপর থেকে দেখতে হয়, নামতে হলে কয়েকশ সিড়ি পেরিয়ে নামতে হয় অনেক নিচে, হয়ত নামার পথটাও বীচের মতই সুন্দর। বীচ ঘুরে ফিরে সন্ধায় ফিরে সূর্যাস্ত দেখলাম উলুওয়াটু টেম্পল এ,এই সিন ভুলার মত না, পাহাড়ের শীর্ষে দাঁড়িয়ে দূর সমুদ্রে সূর্যকে হারিয়ে যেতে দেখার চিত্র যেকোন কল্পনা কে হার নামাবে। তারপর রাতের ডিনার খেতে যাই জিম্বারান বীচ এ,সীফুড ডিনার,সামনে চিরগর্জনকৃত সমুদ্র, ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, সব মিলিয়ে পারফেক্ট এন্ডিং অফ দা ডে, ৬৫০০০০ এর মত খরচ পরেছিল ডিনারে যদিও আসলে খরচ এত বেশি না।

দিন ৩ঃ দা গিলি আইল্যান্ডঃ

বিভিন্ন মুভিতে দেখা যায় কোন দ্বীপ মানে হচ্ছে নির্জন একটা যায়গা, ঘন পাহাড় দিয়ে ঘেরা, বিভিন্ন হিংস্র পশুর ঘোরাঘুরি, গিলি দ্বীপ ঠিক তার উলটা। মানুষ জনের সমারহে এই দ্বীপটা ২৪ ঘন্টাই জেগে থাকে। ভিতরের রিসোর্ট গুলোতে কেউ রিলাক্স করতে চাইলেও সেই ব্যাবস্থা আছে। ৩য় দিনে আমরা ফাস্ট বোটে করে গিলির উদ্দেশ্যে রওনা দেই, বোটের নাম পুত্রি আইল্যান্ড,২ জনের আপ-ডাউন খরচ ১১০০০০০। গিলিতে আমাদের রিসোর্টের নাম ছিল “Voodoo Gili”, চমৎকার আলাদা ছোট কামরা,সামনে সুইমিং পুল,পোর্ট থেকে হেটে ১০ মিনিট।খরচ পরে ৫৫০০০০,১ দিনের জন্য। হোটেলে চেক ইন করতেই একটা কম্পলিমেন্টারি ড্রিংস দিল,সেটা খেয়েই আমরা রওনা দিলাম আবার পোর্ট এর দিকে, টার্গেট স্নরকেলিং!! ২ জনের ২২০০০০ দিয়ে স্নরকেলিং বুক দিলাম,কিছুক্ষন পর একটা ছোট বোট আমাদের নিয়ে সাথে আরো ১৫-২০ জন নিয়ে উঠে পরলাম সাগরের বুকে। পায়ে ফিন, চোখে গগলস এবং যারা সাতার জানে না তাদের জন্য লাইফ জ্যাকেট এর সুবিধা ছিল। ৩ জায়গায় স্নরকেলিং করেছি,১ম স্থানে পানির নিচে একটি মুর্তি,২য় স্থানে টার্টল, এবং ৩য় স্থানে সমুদ্রের তলদেশের বাহারি মাছকে রুটি খাওয়ানো এককথায় অসাধারণ একটা এক্সপেরিয়েন্স!!! মোটামুটি ৪ ঘন্টার একটা স্নরকেলিং জার্নি শেষে ব্যাক করার পর দেখি সন্ধ্যা হয়ে গেছে। একটা সাইকেল ভাড়া করা ছিল, যেহেতু গিলিতে ঘোড়ার গাড়ি আর সাইকেল ছাড়া কোন যানবাহন নাই, সাইকেলে করে দ্বীপটা একটু ঘুরে দেখলাম। লোকাল মার্কেটে ঘুরে সী ফুড খেলাম তারপর রাতে হোটেলে ব্যাক করে আকাশের লক্ষ তারার নিচে কুসুম গরম পানির সুইমিং পুলে গা ভিজালাম!!

দিন ৩ঃ নুসা ল্যাম্বোংগান ঃ

গিলি থেকে ডাইরেক্ট নুসা ল্যাম্বোংগান এ না গিয়ে আমরা বালি হয়ে ল্যাম্বোংগান যাই, বালি থেকে ল্যাম্বোংগান যেতে আমাদের খরচ হয় ৭০০০০০ রুপাইয়া ২ জনের। আমাদের হোটেল ছিল আমার দেখা বেস্ট হোটেল,নাম Nusa veranda Sunset,খরচ ৬৪০০০০, ১ দিনের জন্য। ল্যাম্বোংগান এ নামার আগেই হোটেলের মালিক এবং তার বাবা ২ টা হোন্ডা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, আমরা নামার সাথে সাথে মালপত্র সহ আমাদের হোটেলে নিয়ে যায়। একদম সমুদ্রের কিনারায় আমাদের হোটেল,মোটামুটি ১০০ ফিট উপরে সীলেভেল থেকে, আমাদের হোটেল টাকে সানসেট পয়েন্ট বলা হয়,সূর্যাস্ত দেখার মোস্ট পারফেক্ট যায়গা,আর রয়েছে ইনফিনিটি সুইমিং পুল!! আমরা নেমেই কম্পলিমেন্টারি ড্রিংকস খেয়েই রওনা দিলাম মোটর সাইকেলে করে, টার্গেট ড্রিম বিচ আর ডেভিলস টিয়ার দেখব। ২০ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম, ড্রিম বীচের আছড়ে পরা স্রোত গুলো অনেক স্ট্রং, অন্যরকম সুন্দর। তার পাশেই ডেভিলস টিয়ার!! এই যায়গাটায় গিয়ে লিটারালি মুখ হা হয়ে গেছে! সমুদ্রের মাঝা মাঝি কোন ঢেউ নেই, তীরের কাছাকাছি এসে বিশাল ঢেউ কিভাবে যেন সৃষ্টি হয়, প্রায় ২০-৩০ ফুট উচু হয়ে এসে আছড়ে পরে কিনারার পাহারের গায়ে। আর এক কর্নারে গোল একটা পাহাড়ের অংশ, তার নিচে একটা গুহার মত, পানি এসে ঢুকে যায় সেই গুহায়, আছড়ে যখন বের হয়ে আসে তখন পানি ধোয়ার আকারে বের হয়ে যায়,মুখে বলে বা লিখে এই সৌন্দর্যের বিবরণ দেয়া সম্ভব না। সন্ধ্যা হতে হতে হোটেলে ব্যাক করি, রেস্ট নিয়ে সুইমিং পুলে সাতরে বের হয়ে যাই ডিনারের জন্য। ডিনার করি লোকাল ফুড নসে গরেং খেয়ে “sand cenengan” নামের রেস্টুরেন্ট এ,২৫০০০০ এর মত খরচ পরে।

সকালে উঠে আমরা “ব্লু লাগুন” দেখতে যাই,আমাদের হোটেল থেকে হেটে ২০ মিনিট, দেখে হোটেলে ব্যাক করে বের হই নুসা পেনিদার উদ্দেশ্যে।

দিন ৪ঃ নুসা পেনিদাঃ

নুসা পেনিদা হল বালির সিক্রেট ওয়াইফ, অনেকে জানে না এর সম্পর্কে, কিন্তু আসল ওয়াইফের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর!!! ক্যালেন্ডারের পাতার চেয়ে বেশি সুন্দর, মোবাইলের থিম করে রাখার মত যায়গা নুসা পেনিদা। নুসা ল্যাম্বোংগান থেকে মাত্র ২০ মিনিট লাগে ফাস্ট বোটে, খরচ ২ জনের ২০০০০০। আমাদের হোটেল ছিল একদম ৫ মিনিটের পথ পোর্ট থেকে,নাম “Saka boutique hotel”, খরচ ছিল ৬৫০০০০ এর মত,১ দিনের জন্য। টিপিকাল হোটেল রুম,সামনে সুইমিং পুল, পিছনে গার্ডেন। চেক ইন করে একটা গাড়ি বুক করে নেই ৫৫০০০০ দিয়ে, আমাদের ঘুরাবে বানাহ ক্লিফ পয়েন্ট -ক্লেইক্লিং বিচ- এনজেলস বিলাবং- ব্রোকেন বীচ- ক্রিস্টাল বে। ড্রাইভারটা যথেষ্ট ভদ্র ছিল, শাহরুখ খানের ফ্যান, ব্লু টুথ দিয়ে গাড়ির মিউজিক সিস্টেম এর সাথে কানেক্ট করে মোবাইলে শাহরুখ খানের গান শুনতে শুনতে গাইতে গাইতে আমরা রওনা দেই। ড্রাইভারের নাম ” মাডে”, হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার +62 813-5326-2090, গিয়ে আমার পরিচয় দিয়েন,বলবেন বাংলাদেশ থেকে আসছেন। যাই হোক সকাল ১১ টায় গাড়িতে উঠে পাহাড়ের উচু নিচু পথে আমরা রওনা দেই, ১.৫-২ ঘন্টা পর বানাহ ক্লিফ পয়েন্টে পৌছি। বানাহ ক্লিফ দেখে ওখান থেকে যাই কেইলিংকিং বীচ। এই ২ যায়গার অনুভূতি অন্যরকম, সামনে অপার নীল সমুদ্রের লীলাখেলা কয়েক হাজার ফুট নিচে, কিভাবে একবার নিলাভ পানি আকাশী পানির সাথে মিলে যাচ্ছে,আবার সামনে এসে পাহাড়ের তলদেশে আছড়ে পরছে! উপরে গগনবিদারী সূর্য এবং নীল আকাশ সামনে অথই সমুদ্রে মিলিয়ে এক উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে!!! কেইলিংকিং বীচ এর স্পেশালিটি অন্য যায়গায়, সামনেই ড্রাগনের মাথার মত একটা পাহাড়ের অংশ এক অদ্ভুত সুন্দর চিত্রের প্রকাশ ঘটায়, ইন্সটাগ্রাম মডেল দের জন্য এক চিত্র স্বর্গ এটা!! এখান থেকে বেরিয়ে কিছুদুর এগিয়ে লাঞ্চ করলাম, নসী গরেং দিয়ে, পরে এগিয়ে চললাম এঞ্জেলস বিলাবং এর দিকে। এঞ্জেলস বিলাবং আর ব্রোকেন বীচ পাশাপাশি, এঞ্জেলস বিলাবং অনেকটা ঢাকার লোকাল বাসের যাত্রিদের মত অবস্থা! যাত্রিরা যেমন ধাক্কাধাক্কি করে বাসে উঠে ঠিক তেমনি সাগরের স্রোত গুলো একে অন্যের উপর বেয়ে মনে হচ্ছে পাহাড়ের উপর উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে!! আর ব্রোকেন বীচ একটা অনন্য সৃষ্টি, কিভাবে যেন ২ পাহাড়ের মধ্য দিয়ে একটা দরজার মত তৈরি হয়েছে, সাগরের নীল জলধারা সেই পথ থেকে এসে ছড়িয়ে পারে আছাড় খায়! এই ২ যায়গা দেখে সূর্যাস্ত দেখতে চলে গেলাম ক্রিস্টাল বে তে, সমুদ্রের পানি তে গা ভিজিয়ে দিনের শেষ করলাম। রাতে লোকাল ফুড খেয়ে নাস্তা করলাম,আর হোটেলেই ডিনার সারলাম। নুসা পেনিদার ১ দিন আজীবনের জন্য মনের কোনে গেথে গেল।

দিন ৫ঃ ব্যাক টু বালি

এই দিন সকালে ফাস্ট বোট দিয়ে বালিতে ব্যাক করি,খরচ পরে ২ জনে ৬০০০০০, ফাস্ট বোটের নাম “crown fast boat”। ওদের শাটল কার আমাদের হোটেল এ নামিয়ে দিয়ে যায়। কুটা বীচের ঠিক পাশেই হোটেল বুক করা ছিল, নাম “hotel sorga cottages”, খরচ ১৮০০ টাকা পার ডে, আমার দেখা অন্যতম জঘন্য হোটেল, রেটিং ভাল দেখালেও আমরা খুব বাজে সারভিস পেয়েছি, রুম রাতে পানিতে ভরে গেছে, আসবাবপত্র গুলো পুরোন জনজীর্ণ, অনেক বাজে ব্যাপার স্যাপার!!

যাই হোক রুমে চেক ইন করে বেরিয়ে পরলাম শেষ দিনের জন্য। আগের ট্যাক্সি ড্রাইভার ই ফিক্সড করা ছিল, খরচ ৬৪০০০০। প্লান প্রথমে ছিল মাউন্ট বাতুর যাব কিন্তু বালি পৌছতে প্রায় দুপুর ১২-১ টা বাজায় সে প্লান বাদ দিতে হয়,পরে ঠিক করলাম যাব আপসাইড ডাউন ওয়ার্ল্ড-গুনুং কাউয়ি-তেনেনুংগান ওয়াটার ফল – রক বার। যদিও পরে সময় স্বল্পতার কারনে গুনুং কাউয়ি তে ঢুকি নাই,আর শেষে রাস্তার জ্যাম এর কারনে রক বারে ঢুকেছি সূর্যাস্তের পর। আপসাইড ডাউন ওয়ার্ল্ড যায়গাটা নামের মতই, সব কিছুই উলটা করে সাজানো, ছবি পোজ নিয়ে তুললে পুরো মনে হবে উলটা হয়ে আছেন!! ওখান থেকে গুনুং কাউয়ি তে গিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু ওখানএ পুরা ট্যুর শেষ করতে নাকি ২ ঘন্টার বেশি লাগে তাই ঢুকা হয় নাই, গুনুং কাউয়ি একটা ট্রাকিং এর আর্টিফিসিয়াল ট্রাক, পাহাড়, ঝর্ণা, পানি একটা মিক্সড স্পট। পরে গেলাম তেগেনুংগান ওয়াটার ফল এ, মোটামুটি বড় সাইজের একটা ঝর্ণা, আমাদের মাধবকুণ্ড থেকে খুব একটা বড় হবে না,কিন্তু অনেক স্রোত, মানুষজন অনেক বেশি। নামা উঠা করাটা বেশ কষ্টের, পাশেই একটা ছোট ঝর্ণা আছে- ব্লাংসিংগা ওয়াটার ফল। ঝর্ণার সামনে একটা বিশাল সাইজের দোলনা আছে, এটায় বসে ছবি তুললে পিছনের ঝর্ণা সহ অসাধারণ ছবি আসে,টাকা লাগে এটাই বসতে, ওরাই আপনার মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে দিবে,২ টা ছবি ডিএসএলআর এ তুলে প্রিন্ট করে দিবে,খরচ প্রতি জনের ১০০০০০।

ওখান থেকে বেরিয়ে রক বারের দিকে রওনা দেই,সূর্যাস্ত দেখব বলে। কিন্তু বালির মধ্যে ঢাকার ভূত ভর করে, অনেকক্ষন জ্যামে আটকা পরে যখন আমরা পৌছি ততক্ষনে সূর্য অস্ত চলে গেছে। রক বার মূলত একটা ড্রিংস বার, তবে সমুদ্রের কিনারায় পাহাড়ের বুকে বসে থাকা এই বার টার ভিউ অসাধারণ!! আমরা রাতে বসেই চিন্তা করছিলাম কি একটা অসাধারন সূর্যাস্ত মিস করে ফেললাম! যারা যাবেন অবশ্যই রিসার্ভ করে বিকালের মধ্যে যাবেন,অনেক ভীর হয়। গিয়ে একটা সফট ড্রিংস হলেও খাবেন, অন্যরকম ভালোলাগা!!!
রাতে আমরা যাই শপিং করতে কৃষনা ওলে ওলে শপিং মলে, মোটামুটি খুব ই সস্তায় স্যূভনীর পাওয়া যায়, মোটামুটি শপিং করি অনেককিছুই, রাত ১ টায় বের হই, এই শপিং মলটা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে,মানুষ ও অনেক আসে এখানে। শপিং করে হোটেলে ব্যাক করি, হোটেলে ফিরার পথে ম্যাকডোনাল্ডস থেকে বার্গার পার্সেল করে নিয়ে যাই।

শেষ দিনঃঃ ব্যাক টু বাংলাদেশ ঃঃ

৫ দিন, ৬ রাতের ট্যুর শেষ করে সেই মালিন্দো এয়ারলাইনস এ করে আমরা মালয়েশিয়া ট্রানজিট হয়ে বাংলাদেশে ব্যাক করি, দুপুর ১২ টায় ফ্লাইট বালি থেকে,রাত ১ টায় আমরা বাংলাদেশ এ ল্যান্ড করি।

মোটামুটি কয়েকটা বীচে আর কয়েকটা স্পটে ঢুকতে একটা ফি লাগে,সেটাও খুব কম, বাংলাদেশি টাকায় ৭০-১৫০ টাকা পার পারসন। বালির বিভিন্ন স্পটে খরচ খুবই কম,একটু হিসাবি হতে পারলে, আসল খরচ টা হয় আপনার প্লেন টিকেট, ট্যাক্সি খরচ, ফাস্ট বোটে। হোটেল খরচ মোটামুটি কম, খাবার ও লোকাল ফুড না খেলে খুব একটা খরচ হয় না। আমাদের ২ জনের এই ট্যুরে টোটাল ১.৫ লাখের মত খরচ যায় শপিং কস্ট ছাড়া যেটা ৩০ হাজারের বেশি কমানো যেত। কিন্তু দিন শেষে এইরকম অসাধারন যায়গা ঘুরে এসে কারো বিন্দুমাত্র আফসোস থাকার কথা না। ব্যাপার টা এরকম আমাকে আরেকবার সুযোগ দিলেও আমি হয়ত বালিতেই যাব!

একটা কথা দিয়ে সিরিজ টা শুরু করেছিলাম সেইটা দিয়েই শেষ করি,
It’s always Bali, It’s always have been Bali, it always will be Bali!!

সোলো ট্যুর হোক, বাজেট ট্যুর হোক, রয়াল ট্যুর হোক বা হানিমুন হোক বালির থেকে বেটার অপশন খুব এ কম আছে। শুধু সৌন্দর্যের দিক থেকে নয়, পরিবেশের দিক থেকেও বালির বেশিরভাগ যায়গা একদম ফকফকা পরিষ্কার। আমরা নিজেরা আসুন নিজের দেশ,নিজেদের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখি এবং যেখানেই ঘুরতে যাই না কেন এ কাজ বজায় রাখি।

“When i follow my dreams, i wake in Bali”….