হুট করে শিপ থেকে চিপসের একটা প্যাকেট পানিতে! তাকিয়ে দেখি মায়ের বয়সী এক আন্টি।
-আন্টি, প্যাকেটটা পানিতে ফেলে দিলেন যে!
-পানিতে ফেলব না তো কই ফেলব?
-পানিটা যে ময়লা হলো, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছেনা?
-ও বাবা, বাংলাদেশের আবার পরিবেশ!

ততোক্ষনে আমাদের মোটামুটি আন্টির সাথে হালকা পাতলা তর্ক বেধে গেলো।
-আমি ফিজিকালি আনফিট, ডাস্টবিনে গিয়ে কিভাবে ফেলব, একটা চিপসের প্যাকেট ফালাইলে কী ই বা হবে, এই সেই…..
এক্সাক্টলি!! এইভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ‘আমি একলাই তো, একটা ফালাইলে কী ই বা হবে’ করে করে কি পরিমান ময়লা করেছি আমাদের ট্যুরিস্ট স্পটগুলো, তা সেখানে গেলেই বুঝা যায়। ছেড়া দ্বীপে দেখলাম কতোগুলো ময়লার ঝুড়ি রাখা অথচ বোতল, প্যাকেট, এইসব ঝুড়ির বাইরে পরে আছে, ঝুড়ি খালি!
আন্টি অবশ্য শেষ পর্যন্ত মেনে নেন যে কাজটা উনি ঠিক করেন নি। 😊

ছবিগুলো সেন্টমার্টিনের। সেন্টমার্টিনে কিভাবে যায় আসে তা নিয়ে গ্রুপে অনেক পোস্ট আছে। তাই সেই বর্ণনায় যাচ্ছিও না।
কথাগুলো বলার মূল কারণ- কদিন পর ঈদের লম্বা ছুটি, আর সামনে আসছে বর্ষাকাল। ভ্রমনপিপাসুরা বেরিয়ে পরবেন ঝর্ণা বা অন্যান্য পছন্দের জায়গায় ঘুরতে। ‘আপনি একলাই’ নিজের জায়গা থেকে পরিবেশটাকে নোংরা না করেন। আপনি যেমন আপনার বাসা নিজে নোংরা করেন না, কাউকে নোংরা করতে দেন না, তেমনি টুরিস্ট স্পটগুলো নোংরা করবেন না, হতে দিবেন না। 🙂

হ্যাপি ট্রাভেলিং।

(ও হ্যা, আন্টিকে চেক করতে একটু পরপর উনার আশেপাশে ঘুরঘুর করেছি। যা কিছু খেয়েছেন, পানিতে ফেলে দেননি, রেখে দিয়েছিলেন 🤭)