ভাই ঘুরতে যাবি?
-নাহ
-কিরে ঘুরতে যাবি?
-নাহ
-কিরে চট্টগ্রাম যাবি ঘুরতে?
-নাহ………..
এইভাবে “না” শুনতে শুনতে এতো রাগ উঠলো যে শেষ পর্যন্ত একাই যাবো ঠিক করলাম। গন্তব্য…… “মেধস মুনীর আশ্রম”, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম😍 ।বাসায় যখন আম্মু আব্বুকে রাজি করালাম তখন সময় রাত ৮:৩০। ট্রেন ৯ টার “মহানগর এক্সপ্রেস”। দৌড়ের উপর গেলাম স্টেশন।সময় তখন ৯:০৭। ট্রেনটি লেইট করায় ধরতে পারলাম। টিকিট ঢাকা-চট্টগ্রাম ৩৪৫ টাকা।ভোর ৫:৩০ টায় চট্টগ্রাম পৌঁছালাম।নেমে নাস্তা করে লোকাল বাসে করে গেলাম বহাদ্দারহাট বাস টার্মিনাল।ভাড়া ১০ টাকা।সেখান থেকে লেগুনায় করে গেলাম কাপ্তাই রাস্তার মাথায়।ভাড়া ১০ টাকা।সেখান থেকে আবার লেগুনায় করে গেলাম কানুনগো পাড়া।ভাড়া ২৫ টাকা।সময় লাগবে ১ ঘন্টার বেশি। কানুনগো পাড়ার বাজার থেকে সিএনজি করে গেলাম আশ্রমের প্রধান ফটকে।ভাড়া ২৫ টাকা। আশ্রম যাওয়ার পথে গ্ৰাম টি দেখতে জল রঙে আঁকা ছবির মতো।😍 প্রায় ১৪০ধাপ সিঁড়ি বেয়ে প্রায় ৫০০ ফুট উপরে দেখা মিলবে আশ্রমটির।এতোটা পরিচিত নাহ তাই মানুষ জন নেই বললেই হয়। কিন্তু কোনো রিস্ক নেই চুরি ছিনতাই এর।চূড়া থেকে বোয়ালখালী উপজেলার ভিউ টা অসম্ভব সুন্দর😍। আশ্রমের প্রধান ফটকের সামনে খাবারের ব্যবস্থা আছে।প্রতি বেলা ৭০টাকা। আশ্রমের আশে পাশে বেশ কিছু মন্দির আছে। বলা হয় দূর্গা পূজার উৎপত্তি এইখান থেকেই। আশ্রম ঘুরে বিশ্রাম নিয়ে একই উপায়ে চট্টগ্রাম ফেরত আসলাম। কিন্তু আসার সময় আশ্রমের গেইট এর সামনে সিএনজি পাওয়া যায় নাহ সো আগেই সিএনজি চালককে বলে বলে রাখা ভালো।নাহয় ২০-২৫ মিনিট হেটে রাস্তায় আসার পর সিএনজি নিতে হবে।যদি ও ২০-২৫ মিনিটের রাস্তাটি অসম্ভব সুন্দর তাই কষ্টটা গাঁয়ে লাগবে নাহ।

এখনো তেমন একটা পরিচিত নাহ তাই এর পরিবেশ মোটামুটি অনেক ভালো।আর তাছাড়া কর্তৃপক্ষ ও অনেক তৎপর।তাই সেখানে গিয়ে ভুলে গেলে চলবে নাহ যে এইটা একটা উপাসনালয়। স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।পাহাড় ঘুরতে গেলে নিরবতা বজায় রাখুন তবেই পাহাড়ের কান্না শুনতে পাবেন।আর অপচনশীল বস্তু ফেলে আসবেন না।পারলে অপচনশীল বস্তু পরে থাকলে সাথে করে নিয়ে আসুন।